ব্রাজিলের সর্বোচ্চ সম্মান মোদীর ঝুলিতে, আন্তর্জাতিক পুরস্কারের সংখ্যা ছুঁল ২৬

নিউজ ফ্রন্ট ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে মোদীকে এই সম্মান প্রদান করেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২৬তম সম্মান। এর আগেও বিদেশ সফরের সময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকে তিনি সেসব দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেয়েছেন।

ভারত ও ব্রাজিলের সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল, যখন ৫৭ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ব্রাজিলে সফরে গিয়ে এই সম্মানে ভূষিত হলেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করল এই উপলক্ষ।“

“এর আগেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোর সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘অর্ডার অফ দ্য রিপাবলিক অফ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগো’ এবং ঘানার জাতীয় পুরস্কার ‘অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য স্টার অফ ঘানা’ লাভ করেছেন।“

“গত মাসেই সাইপ্রাস সফরের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিদেস তাঁকে সম্মানিত করেন ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ মাকারিওস III’-তে, যা সাইপ্রাসের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান।

এছাড়া, এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা সফরে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা ডিসানায়েকে মোদীকে ‘শ্রীলঙ্কা মিত্র বিভূষণ’ সম্মান প্রদান করেন। এটি শ্রীলঙ্কার কোনও বিদেশি নেতাকে দেওয়া সর্বোচ্চ পুরস্কার এবং প্রথমবারের মতো কোনও ভারতীয় এই সম্মান পেলেন।

এই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৬টি আন্তর্জাতিক শীর্ষস্থানীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বিশ্বের নানা দেশ তাঁর নেতৃত্ব ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান দিয়েছেন।

২০২৩ সালের জুলাই মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁকে রাশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান ‘অর্ডার অফ সেন্ট অ্যান্ড্রু দ্য অ্যাপোস্টল’ প্রদান করেন, যা প্রথম কোনও ভারতীয় নেতার প্রাপ্তি।

২০২৪ সালের নভেম্বরে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ মোদীকে ‘গ্র্যান্ড কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ নাইজার’ সম্মান প্রদান করেন। সম্মাননাপত্রে বলা হয়, মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারত আজ এক বিশ্বশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত ৫৬ বছরে এই পুরস্কার পেতে মোদী প্রথম বিদেশি নেতা।

একই মাসে গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলি তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘দ্য অর্ডার অফ এক্সেলেন্স’ প্রদান করেন। এই সম্মান দেওয়া হয় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সমাজে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ।

ঠিক সেই দিনেই, ডোমিনিকার প্রেসিডেন্ট সিলভেনি বার্টন তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ডোমিনিকা অ্যাওয়ার্ড অফ অনার’ প্রদান করেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ভারতের সহায়তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য এই সম্মান দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কুয়েতের আমির মিশাল আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘দ্য অর্ডার অফ মুবারক আল-কবীর’ প্রদান করেন। এই বিরল সম্মান খুব সীমিত কয়েকজন বৈশ্বিক নেতার কপালেই জুটেছে।

২০২৫ সালেও মোদী আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন। কিছুদিন আগেই বারবাডোস তাঁকে ‘অনারারি অর্ডার অফ ফ্রিডম অফ বারবাডোস’ প্রদান করে। এই পুরস্কার মোদীর পক্ষে গ্রহণ করেন ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্রা মার্গারিটা।

চলতি বছর ১২ মার্চ, মরিশাসের জাতীয় দিবস উদযাপনের সময় রাষ্ট্রপতি ধর্মবীর গোখুল প্রধানমন্ত্রী মোদীকে মরিশাসের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গ্র্যান্ড কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য স্টার অ্যান্ড কি অফ দ্য ইন্ডিয়ান ওসান’ প্রদান করেন। কোনও ভারতীয় এই প্রথম এই সম্মান পেলেন।

এই সকল পুরস্কার এবং মোদীর গ্লোবাল লিডার হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে তাঁর গভীর দৃষ্টিভঙ্গি। তা হলো—সম্পূর্ণ মানবজাতির কল্যাণ, শান্তি এবং সংলাপের পথে অগ্রসর হওয়া। শুধুমাত্র সংঘাত নয়, পরিবেশ সংকট বা সন্ত্রাসবাদ—এই বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর সমাধানে মোদীর বার্তা পরিষ্কার: একসঙ্গে চলুন, একসাথে সমাধান খুঁজুন।“

হাই-টেক যুগে বা উন্নয়নের পথে, মোদী বারবার গ্লোবাল সাউথ-সহ সব দেশকে সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন। আর এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে আজ বিশ্বের চোখে এক বিশ্বনেতা করে তুলেছে—যার হাত ধরে মানবতার ভবিষ্যৎ আরও আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *