নিউজ ফ্রন্ট, ৭ জুলাই – বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক আমেরিকায় নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। সম্প্রতি মাস্ক ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের কথা জানিয়েছেন, যা ট্রাম্প সরকারের সাথে তার ক্রমবর্ধমান মতবিরোধের জের।
নিউ জার্সির মরিসটাউন থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওয়াশিংটন ফেরার সময় সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বলেন, “তৃতীয় দল গঠন করা হাস্যকর। আমাদের রিপাবলিকান পার্টির সাথে অসাধারণ সাফল্য রয়েছে। তৃতীয় দল গঠন করা শুধু বিভ্রান্তি বাড়ায়।”
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে আরও কঠোর ভাষায় লিখেছেন, “আমি দুঃখিত হয়ে দেখছি যে ইলন মাস্ক গত পাঁচ সপ্তাহে সম্পূর্ণভাবে ‘লাইনচ্যুত’ হয়ে গেছেন, মূলত একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছেন।”
প্রেসিডেন্ট মাস্কের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জ্যারেড আইজ্যাকম্যানকে নাসার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “মাস্কের মহাকাশ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় এটি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করত।” গত মে মাসে ট্রাম্প সিনেট অনুমোদনের আগেই আইজ্যাকম্যানের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
মাস্ক তার এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “আমাদের দেশকে অপচয় ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেউলিয়া করার ক্ষেত্রে আমরা একদলীয় ব্যবস্থায় বাস করছি, গণতন্ত্রে নয়।” তিনি আরও বলেছেন, “আজ আমেরিকা পার্টি গঠিত হল আপনাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে।”
দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মধ্যে এই বিবাদের শুরু হয়েছে ট্রাম্পের “বিগ বিউটিফুল বিল” নিয়ে। মাস্ক এই বিলকে “ঘৃণ্য কুকর্ম” বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি দেশের ঋণের বোঝা ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে দেবে।
মাস্ক ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় দাতা ছিলেন, প্রায় ২৮০ মিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন। তিনি সরকারের অপচয় কমানোর জন্য DOGE (ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি) এর প্রধান হিসেবে কাজ করেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকার ইতিহাসে তৃতীয় দল কখনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২6 সালের মার্কিন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে ইলন মস্কের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের জন্যই অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে ট্রাম্প যে এই নতুন দলের সম্ভাবনাকে একেবারে নস্যাৎ করে দিতে চাইছেন, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট। তবে মাস্কের বিপুল সম্পদ ও প্রভাব ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।