নিউজ ফ্রন্ট| পাটনা, ৫ জুলাই:
রাজধানী পাটনার গাঁধীময়দান এলাকায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও হাসপাতাল কর্ণধার গোপাল খেমকা। শুক্রবার গভীর রাতে এই ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার নিজে পুরো বিষয়টির ওপর নজর রাখছেন।
প্রসঙ্গত, ছয় বছর আগে একইভাবে খুন হয়েছিলেন গোপাল খেমকার ছেলে গুঞ্জন খেমকা। সেই হত্যার রহস্য আজও অধরা। এবার বাবাকে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে।
সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে নিজের অফিস থেকে বেরোনোর সময় খেমকাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও ফরেন্সিক টিম। এলাকাজুড়ে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বারবার ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করা হলেও প্রশাসন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় না। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
ঘটনার পর গোপাল খেমকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা। তিনি বলেন, “এটি নিছক একটি খুন নয়, এটা রাজ্যের আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া। যারা এই ঘটনায় জড়িত, তারা পৃথিবীর যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, টেনে বের করে আনা হবে। দরকার হলে এনকাউন্টার হবে, বুলডোজার চলবে।”
ঘটনার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেন। পুলিশের ডিজি ও শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন— “অপরাধীদের কোনও রকম রেহাই দেওয়া চলবে না। তদন্তে বিলম্ব করলে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

SIT গঠন করে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাজ্য সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরজেডি মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় তিওয়ারি। তিনি বলেন, “এটা প্রমাণ করে রাজ্যে ফের ‘জঙ্গল রাজ’ ফিরে এসেছে। যখন একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর জীবন সুরক্ষিত নয়, তখন সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ, তা সহজেই অনুমেয়।”
জেডিইউ-র মুখপাত্র নীরজ কুমার বলেছেন, “খেমকা পরিবার সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। এই ঘটনায় আমরা গভীর ভাবে মর্মাহত। তদন্তে কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব চলবে না। SIT নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। শিগগিরই দোষীদের ধরা হবে।”
একদিকে রাজ্য প্রশাসনের দাবি— দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এ ঘটনা রাজ্যের ব্যর্থতা ও শাসক দলের প্রশাসনিক শৈথিল্যের নগ্ন উদাহরণ।
একজন নামজাদা ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং গোটা রাজ্যের আইনি কাঠামো, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনসুরক্ষার প্রতি প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে। এখন দেখার, নীতীশ সরকার এ ঘটনার তদন্তে আদৌ কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেয় এবং আদৌ কি দোষীরা আইনের জালে ধরা পড়ে, নাকি গুঞ্জনের মামলার মতোই এটি আরও এক অনির্বাচিত ন্যায়বিচারের গল্প হয়ে থাকবে।