ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এ সই, বাজেট ঘাটতি বাড়বে ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলার

নয়াদিল্লি, জুলাই:
যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৯তম স্বাধীনতা দিবসে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষর করলেন একটি ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত কর এবং ব্যয় বিল, যেটিকে তিনি নিজেই আখ্যা দিলেন “One Big Beautiful Bill”। যদিও বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে, তবে এটি নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ বিলটি আগামী ১০ বছরে দেশের ঘাটতিতে ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে এবং মেডিকেডে (জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি) বিপুল কাটছাঁট ঘটবে।

ওয়াশিংটনে এক জমকালো স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে, B-2 স্টিলথ বোমারু বিমানের প্রদর্শনী ও সামরিক কুচকাওয়াজের আবহে, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন,
আমরা সব কিছু একসঙ্গে একটা বিলে রেখেছি। এটা আগে কখনও হয়নি। এটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিল। এমন কিছু আগে দেখা যায়নি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলের ফলে প্রায় ১.৭ কোটি আমেরিকান স্বাস্থ্যবিমার আওতা হারাতে পারেন, যার ফলে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার হাসপাতালগুলি বড় বিপদের মুখে পড়বে।

মজার ব্যাপার হলো, এই বিল পাস করাতে গিয়ে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই গভীর বিভাজন দেখা দিয়েছে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে মাত্র চার ভোটের ব্যবধানে (২১৮-২১৪) কোনোমতে পাস হয়েছে বিলটি। গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টির (জিওপি) স্পিকার মাইক জনসনকে শেষ মুহূর্তে বেশ কয়েকজন সদস্যকে মানাতে হয়েছে। এজন্য ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। এমনকি ট্রাম্পের একসময়ের ঘনিষ্ঠ, ধনকুবের ইলন মাস্ক পর্যন্ত বিলটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে একে “অর্থনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন” আখ্যা দিয়েছেন।

তবে এই বিলে স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প গত দুই সপ্তাহের ধারাবাহিক সাফল্যের মুকুট পরলেন। এর মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের এমন একটি রায় যা তাঁর নীতি বাস্তবায়নে বিচারকদের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করেছে, ন্যাটোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যয় চুক্তি এবং ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি। ট্রাম্পের ভাষায়, মার্কিন বিমান হামলা ছিল ‘নিখুঁত’।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা বলছে, এই বিলটি দরিদ্র থেকে ধনীদের দিকে সম্পদ হস্তান্তরের একটি নির্লজ্জ পদক্ষেপ। তারা আশাবাদী, জনগণের ক্ষোভ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউসে তাদের পক্ষে হাওয়া বইয়ে দেবে।

তবে আপাতত ট্রাম্প এই আইনকে একটি বড় জয় হিসেবে দেখাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচনের ময়দানে লড়াইয়ের মঞ্চ ইতিমধ্যেই তৈরি হতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *