নাবালিকা ধর্ষণে যাবজ্জীবন মালদার তৃণমূল নেতার

ভোটপরবর্তী হিংসায় সিবিআই মামলায় রাজ্যে প্রথম সাজা

মালদা, ৪ জুলাই: ভোটপরবর্তী হিংসায় সিবিআইয়ের দায়ের মামলায় রাজ্যে প্রথম সাজা ঘোষণা করল মালদা আদালত। এক নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল। সেই সঙ্গে তার ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত ২০২১ সালের ৫ জুন মালদার মানিকচক থানা এলাকায় চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ওই তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আজ তার সাজা ঘোষণা করলেন অতিরিক্ত দায়রা আদালতের দ্বিতীয় বিচারক রাজীব সাহা। এই সম্পর্কে জানিয়েছেন সিবিআই-এর আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র।

সিবিআই-এর আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র জানিয়েছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে মোট ৫৫টি ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলা হয়েছিল, যার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ওই ৫৫টির মধ্যে প্রথম মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হল।

তিনি জানান, এটি একটি পকসো সংক্রান্ত মামলা। অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। একই সঙ্গে, নির্যাতিতার পরিবারকে স্টেট ফান্ড থেকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মৈত্র আরও বলেন, ২২ জন সাক্ষীর বয়ান ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং আজ তার সাজা ঘোষণা করা হয়।
সিবিআই পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজার দাবি করা হয়েছিল, তবে বিচারক সামাজিক প্রেক্ষাপট বিচার করে জীবনভরের কারাদণ্ডের রায় দেন।

আদালতের এই রায়ে খুশি নির্যাতিতার পরিবার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যায়বিচার পেয়ে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

এই রায়ের পর এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “মানিকচক ধর্ষণ মামলায় ন্যায়বিচার: পশ্চিমবঙ্গে ভোটপরবর্তী হিংসার শিকারদের জন্য ন্যায়বিচারের দিকে একটি পদক্ষেপ।”

তিনি আরও লিখেছেন, “বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমি মাননীয় কলকাতা হাইকোর্টকে সেলাম জানাই এই মামলাটি সিবিআই-কে হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য। আমি সিবিআই সদর দপ্তর এবং প্রসিকিউশনকেও সাধুবাদ জানাই অভিযুক্তকে ন্যায়বিচারের আওতায় আনার জন্য তাদের পরিশ্রমের জন্য।”

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই রায় শুধু একটি সূচনা। তৃণমূল সরকার রাজ্যের সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ — এবং সেই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা তাদের আইনশৃঙ্খলা হীনতার পৃষ্ঠপোষকতা প্রমাণ করে।

তিনি বলেন, “ভোট-পরবর্তী হিংসায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের কাছে এই রায় একটি আশার আলো। তবে আমাদের লড়াই এখানেই থেমে যাবে না। যতদিন না সমস্ত অপরাধীর শাস্তি হয়, ততদিন আমরা বিশ্রাম নেব না।”
তিনি পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করেন, বিজেপি সমস্ত ভুক্তভোগীর পাশে আছে এবং ন্যায়বিচার আদায়ের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে।

মালদার আদালতের এই নির্দেশ সারা রাজ্যের বিজেপি কর্মীদের স্বস্তি দেবে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার ।

এই রায়টি পশ্চিমবঙ্গে ভোটপরবর্তী হিংসার মামলায় সিবিআই তদন্তের পর প্রথম দোষী সাব্যস্তকরণ ও সাজা প্রদান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটপরবর্তী হিংসার শিকারদের জন্য ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *