বহরমপুরে অঞ্চল সভাপতি সহ গ্রেপ্তার ৮
নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর, ২১ জুলাইঃ
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন এমন কর্মকাণ্ডে ধরা পড়েন, তখন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় অসন্তোষ ও নিরাপত্তাহীনতা। ২১ জুলাই শহীদ দিবসের মতো আবেগঘন দিনে একদিকে যখন ধর্মতলায় শহিদদের স্মরণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই রাজ্যের এক শাসক দলের অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের ঘটনা। সোমবার রাতে বহরমপুর থানার পুলিশ জুয়ার আসরে হানা দিয়ে তৃণমূলের মণীন্দ্রনগর অঞ্চলের সভাপতি বলাই মন্ডল-সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বলাই মন্ডলের বাড়িতেই বসেছিল এই জুয়ার আসর। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ বানজেটিয়ার ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে।
জুয়ার আসর থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় দুই লক্ষ টাকা। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার তাদের বহরমপুর আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ ২১ জুলাই শহীদ দিবসে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়— “সমস্ত নেতাকর্মী শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাস্তায় নেমেছেন।” সেই প্রেক্ষিতে এই ধরনের ঘটনা প্রশ্ন তোলে, আদৌ কি সকলেই শহিদদের স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখছেন?
ঘটনার পর বহরমপুর বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এদিকে কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী কয়েকদিন আগেই তৃণমূলকে “মাফিয়া সংগঠন” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই মন্তব্য আবারও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।
এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবস অনুষ্ঠানকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারীর বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি বলেন”এটা এখন আর রাজনৈতিক নয়, বরং সরকারি অনুষ্ঠান!” “মদ খেয়ে রাজপথে নামে ওরা!” “বাংলা ও ভারতের সংস্কৃতি নষ্ট করছে তৃণমূল!”
একদিকে শহিদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা, অন্যদিকে শাসকদলেরই নেতার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ— এমন ঘটনায় জনমানসে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। মানুষের প্রশ্ন— সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন কতটা সচেতন? যদি রাজনৈতিক দলের নেতারাই এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে সমাজের সামনে কী বার্তা পৌঁছায়? বহরমপুরের ঘটনা নিঃসন্দেহে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা— উভয় প্রশ্নই তোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ।