বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র ও জালনোট সহ গ্রেফতার ৩

আব্দুল হালিম, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় অস্ত্র পাচারকারীদের বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল জেলা পুলিশ। বুধবার বিকেলে বহরমপুর থানার সুভাষনগর এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ কার্তুজ এবং জালনোট সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সাফল্যের কথা জানান অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) মাজিদ ইকবাল খান।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল (বুধবার) বিকেল ৪:৩০ নাগাদ গোপন সূত্রে খবর আসে যে বহরমপুরের সুভাষনগর এলাকায় ‘আহিল হসপিটেক্স’-এর সামনে কয়েকজন দুষ্কৃতী নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই এসওজি (SOG) মুর্শিদাবাদ পিডি এবং বহরমপুর থানার পুলিশ যৌথভাবে ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়। সেখান থেকেই হাতেনাতে ধরা পড়ে তিন অভিযুক্ত। ধৃতরা হলো কাওসার আলি (১৯) , রফিকুল মণ্ডল ওরফে রফি (৩৫) এবং সাকিরুল শেখ (৩২) । ধৃত কাওসার আলী বাড়ি রানীনগর রফিকুল মণ্ডলের বাড়ি ইসলামপুর এবং সাকিরুল শেখের বাড়ি সাগরপাড়া।

নিজস্ব চিত্র

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে বহরমপুর থানাতেই একটি অপরাধমূলক মামলা দায়ের ছিল। তল্লাশি চালিয়ে দুষ্কৃতীদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ টি ৭.৬৫ মিমি ইম্প্রোভাইজড পিস্তল,
৪ টি খালি ম্যাগাজিন, ৩০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ (৭.৬৫ মিমি), ১০,০০০ টাকা জাল নোট (FICN) এবং একটি নীল রঙের টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর ১৬০ বাইক।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাজিদ ইকবাল খান জানান “এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে কেনা হয়েছিল। অভিযুক্তরা মূলত অস্ত্র কেনাবেচার ব্যবসার সাথে যুক্ত। তারা ঝাড়খণ্ড থেকে প্রতিটি পিস্তল ৩০-৩৫ হাজার টাকায় কিনে আনত এবং স্থানীয় বাজারে তা ৪৫-৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করত।” উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্রগুলি তারা ডোমকলে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ধৃতদের আজ আদালতে পেশ করা হবে । পুলিশের পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের (PC) আবেদন জানানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও কারা যুক্ত আছে এবং ঝাড়খণ্ডের কোথায় এই অস্ত্রের কারবার চলে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *