তিন দিনের বৃষ্টিতে জলস্তর বৃদ্ধি, ৩৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার পর দুর্ঘটনা
গলসি, পূর্ব বর্ধমান— তিন দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিপাতের ফলে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ায় দামোদর নদের জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতেও নদীর চর থেকে বালি তোলার কাজ অব্যাহত রাখার কারণে পূর্ব বর্ধমানের গলসি গোহগ্রামের সোন্দা বালিঘাট এলাকায় প্রায় ১৫টি ট্রাক মাঝ দামোদরে ডুবে গেছে।
মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধারের জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ১৫ জুন থেকে ২০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার পরিকল্পনা থাকলেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ৩৫ হাজার ২০০ কিউসেক জল ছাড়তে হয়েছে।
ডিভিসি (DVC) জল ছাড়ার পূর্বেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন এই বিষয়ে যেসব এলাকায় জলস্তর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই স্থানের বালি খাদানের ইজারাদারদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল।

জেলা প্রশাসন বালি খনন ইজারাদারদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং যন্ত্রপাতি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু এই নির্দেশিকা অমান্য করে বালি তোলার কাজ অব্যাহত রাখা হয়। ফলে যখন হঠাৎ করে নদীর জলস্তর বেড়ে যায়, তখন বালি বোঝাই ১৫টি ট্রাক মাঝ দামোদরে আটকে পড়ে এবং ডুবে যেতে বসে।
গত তিন দিন ধরে এই অঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে উজানের জলাধারগুলোতে জলের চাপ বেড়ে যায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাঁধের ক্ষতি রোধে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে প্রচুর পরিমাণ জল ছাড়তে হয়।
সোন্দা বালিঘাট এলাকায় নিয়মিত বালি খনন ও পরিবহনের কাজ চলে। নদীর চর থেকে উত্তোলিত বালি ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু জলস্তর বৃদ্ধির সময় এই কাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর দামোদর নদে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। ডুবন্ত ট্রাকগুলো উদ্ধারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জলস্তর কমে গেলে ক্রেনের সাহায্যে ট্রাকগুলো তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
মূলত প্রশাসনের নির্দেশিকা না মানার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও জেলা প্রশাসন পূর্বেই সতর্কতা জারি করেছিল, কিন্তু বালি খনন কারবারিরা সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন। এই ঘটনা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সরকারি নির্দেশনা মানার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। একইসাথে নির্দেশনা বাস্তবায়নে তদারকির অভাবের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া ১৫টি ট্রাকের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। এছাড়া বালি ও অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষতিও যথেষ্ট। বীমা কোম্পানিগুলো এই ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ এটি প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য করার ফলাফল। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।