ইরানে আটকে পড়েছেন দেগঙ্গার ১১ জন! ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনায় বিপদে বাঙালি

তীর্থ পড়াশোনার জন্য গিয়ে ফেরার পথ হারিয়েছে পরিবার | দিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নিউজ ফ্রন্ট, দেগঙ্গা, উত্তর ২৪ পরগনা— মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানে আটকে পড়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার ১১ জন বাসিন্দা। চৌরাশি গ্রামের ঢালি পাড়ার তিনটি পরিবারের এই ১১ জন তীর্থ ও পড়াশোনার জন্য ইরানে গিয়েছিলেন। কিন্তু আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে তারা এখন ফিরতে পারছেন না।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিগত দুই দিন ধরে এই ১১ জনের সাথে তাদের পরিবারের কেউ যোগাযোগ করতে পারছেন না। এর ফলে দেগঙ্গার পরিবারগুলো গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। প্রিয়জনদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে।

ফাইল চিত্র

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢালিপাড়ার গফুর আলি গাঁয়েন ও তার স্ত্রী সুকরান বিবি, সাহিদ আলি গাঁয়েন ও তার স্ত্রী মুসলিমা বিবি এবং পড়শি আক্রাম হোসেনসহ মোট ১১ জন গত ৩০ মে প্লেনে চড়ে ইরানে গিয়েছিলেন। তাদের ফেরার কথা ছিল ১৮ জুন। কিন্তু আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরিকল্পিত সময়ে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না।

শাহিদ আলির ছেলে হোসেন মেহেদি বলেছেন, “গত মাসের ৩০ তারিখে আমার বাবা, মা এবং পাড়ার আরও ৩ জন মিলে ইরানের উদ্দেশে রওনা দেন। ফেরার কথা ছিল ১৮ জুন কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি ইসরাইল-ইরানের মধ্যে বোমাবর্ষণ চলছে। এতে আমরা প্রচণ্ড আতঙ্কিত। ২ দিন ধরে তাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি, যার ফলে বাড়ির সবাই আতঙ্কিত।”

তিনি আরও বলেন, আমরা চাইছি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং ভারত সরকার উদ্যোগ নিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক।”

ইরানে আটকে পড়া বাঙালি পর্যটকের মেয়ে সাহিনা খাতুন জানিয়েছেন, “বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল ১৮ তারিখে, তারপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমার মা হার্টের রোগী – যদি কিছু হয়ে যায়! তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার বাবা-মা যেন বাড়ি ফিরে আসতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করুন।”

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই যুদ্ধাবস্থা ও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য দেশে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই রকম পরিস্থিতির মধ্যেও আজকে ইরান থেকে ১১০ জন কে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে বিদেশ মন্ত্রক।

আটকে পড়া ১১ জনকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের পরিবার প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ মন্ত্রক পর্যন্ত সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে।পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা যে কোনো মূল্যে তাদের প্রিয়জনদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে চান।

দেগঙ্গার পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি আনিসুর রহমান পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা আটকে পড়া পরিবারগুলোর পাশে আছি। তাদের সদস্যদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হবে।” আনিসুর রহমান আরও জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে যোগাযোগ করে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিবারগুলোকে মানসিক সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পঞ্চায়েত নেতৃত্ব যৌথভাবে আটকে পড়া ১১ জনকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের নির্দেশে ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস আটকে পড়া  ভারতীয় নাগরিকদের সাহায্যের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

এই ঘটনা পুনরায় মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *