আইপিএলে আরসিবি-র প্রথম শিরোপাজয়ের আনন্দে মেতে ওঠা বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার জেরে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারালেন অন্তত ১১ জন। আহত বহু সংখ্যক মানুষ।শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ।
নিউজ ফ্রন্ট, ৪ জুন:
আইপিএল ২০২৫-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রথমবারের শিরোপা জয় উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের সামনে ভক্তদের জড়ো হওয়া আনন্দঘন পরিবেশকে মুহূর্তে বিষাদের ছায়ায় ঢেকে দিল এক ভয়াবহ পদদলনের ঘটনা। এই দুর্ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স (সাবেক টুইটার)-এ শোকজ্ঞাপন করে লেখেন, “বেঙ্গালুরুর ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই দুঃখের সময়ে যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”
কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, “এই আনন্দের মুহূর্ত হঠাৎ করেই কালো ছায়ায় ঢেকে গেল। রাজ্য সরকার আগেই জনজমায়েতের অনুমতি দেয়নি নিরাপত্তাজনিত কারণে, তবুও স্টেডিয়াম চত্বর উপচে পড়ে ছিল জনসমুদ্র। এই বিশৃঙ্খলার ফলেই ঘটে যায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।”
তিনি আরও জানান, “আমরা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে বাওরিং ও ব্যাধী হাসপাতালে গিয়েছি। মৃতদের পরিবারের পাশে থাকব সবরকমভাবে।”


উল্লেখ্য, সরকারিভাবে কোনো বিজয় মিছিলের অনুমতি না থাকলেও, ভক্তদের উচ্ছ্বাস রুখতে পারেনি প্রশাসন। স্টেডিয়ামের গেটে পাস ছাড়াই ঢুকতে চাওয়ায় হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা। পুলিশ মোতায়েন থাকলেও ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আশেপাশের রাস্তায় যানজটের কারণে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোও সম্ভব হয়নি।
চোখে জল, হৃদয়ে ব্যথা নিয়ে এখন গোটা বেঙ্গালুরু। ঘটনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে কর্ণাটক সরকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নেওয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ।