বারাসত, ২০ জুলাই: বসিরহাটের সন্দেশখালিতে একটি হোটেল থেকে বিপুল পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের নাম সিরাজউদ্দিন মোল্লা ও দেবব্রত চক্রবর্তী। উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যে ৯ কোটির বেশিই জাল নোট বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। এই পাহাড়প্রমাণ টাকার উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের খুঁজতে ধৃতদের জেরা করছে পুলিশ। এদিকে, হোটেলের মালিক বাপ্পাদিত্য মণ্ডলকে খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে ধামাখালি ফেরিঘাট সংলগ্ন একটি বিলাসবহুল হোটেলে পুলিশ আচমকা অভিযান চালায়। হোটেলের ২০৬ নম্বর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করে। সেখানে বিস্কুটের কার্টুনের ভিতরে থরে থরে ৫০০ টাকার নোট সাজানো ছিল।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ধৃত দেবব্রতর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায় এবং অপরজন সিরাজউদ্দিন ক্যানিংয়ের জীবনতলা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সন্দেশখালির বিভিন্ন এলাকায় এখনও বিপুল পরিমাণ টাকা মজুত রয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেসব উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মেশিন এবং সিরাজউদ্দিনের কাছ থেকে দুটি আধার কার্ডও পুলিশ উদ্ধার করেছে।
হোটেলের কর্মী রাহুল সরকার জানিয়েছেন, “শুক্রবার দুপুরে ওই দু’জন গেস্ট আসেন। তারা সমস্ত নথিপত্র জমাও দেন। তাঁদের সঙ্গে সুটকেস-সহ কয়েকটি ব্যাগ ছিল। আজ সকালে দেখি পুলিশ ওই ঘরে অভিযান চালায়। তাদের কাছ থেকে পুলিশ টাকা পেয়েছে।”
এই টাকা উদ্ধারের ঘটনার তদন্তের জন্য ৫ সদস্যের CID-র একটি দল সন্দেশখালি থানায় এসে পৌঁছেছে। ধৃত দুই জনকে আজ বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই হোটেলটি একসময় শেখ শাহজাহান ও শিবু হাজরার নামে ছিল। বর্তমানে হোটেলটির মালিক শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ বাপ্পাদিত্য মণ্ডল। এই ঘটনা সন্দেশখালির রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।