সাইবার জালিয়াতির জাল ফাঁস — মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার ৩ যুবক

অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৭ কোটির প্রতারণা, জাল নথি ও একাধিক সিম উদ্ধার

নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ:

নিজের অজান্তেই কোটি কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার শিকার হলেন মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া এলাকার এক পরিযায়ী শ্রমিক। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের নোটিশ হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই হরিহরপাড়া থানার সহযোগিতায় বহরমপুর সাইবার থানার পুলিশ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হল আবদুল রউফ শেখ, সাহাবুল শেখ এবং রাকেশ মণ্ডল । অভিযুক্তদের মধ্যে প্রথম জনের বাড়ি চোয়া শিবনগর এবং বাকি দুজনের বাড়ি হরিহরপাড়ার ডল্টনপুর

ঘটনার সূত্রপাত

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে। হরিহরপাড়ার রুকুনপুর গ্রামের বাসিন্দা কাবিরন বিবির ছেলে আরিফ শেখকে একই এলাকার তিন যুবক আব্দুল রউফ শেখ, সাহাবুল শেখ এবং রাকেশ মন্ডল একটি প্রস্তাব দেয়। তারা আরিফকে তার ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহারের জন্য রাজি করায়। সহজ-সরল আরিফ তাদের কথায় বিশ্বাস করে নিজের ব্যাংক একাউন্টের তথ্য তাদের হাতে তুলে দেন।

দীর্ঘদিন পর উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশন থেকে আরিফের কাছে একটি আইনি নোটিশ আসে। নোটিশে দেখা যায়, তার ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে প্রায় ৭.১৮ কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেনের কথা জেনে আরিফ ও তার পরিবার হতবাক হয়ে যান। ভয় পেয়ে ৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার কাবিরন বিবি বহরমপুর সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগ পেতেই নড়েচড়ে বসে সাইবার থানার তদন্তকারীরা। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে বুধবার সকালে হরিহরপাড়া কিষাণ মান্ডি এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। হাতেনাতে ধরা পড়ে তিন অভিযুক্ত। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়— একাধিক ব্যাঙ্কের পাসবই, আধার কার্ড, ডেবিট কার্ড, এবং বিভিন্ন কোম্পানির সিম কার্ড

তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি চালাচ্ছিল। শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, জেলার বাইরেও তাদের চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলে অনুমান। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর হয়েছে এবং গভীরভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

পুলিশ আধিকারিক বলেন—

“আমাদের কাছে অভিযোগ আসে যে এক শ্রমজীবী পরিবারের যুবকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তদন্তে নামতেই ধরা পড়ে প্রতারণা চক্র। আমরা প্রয়োজনীয় নথি উদ্ধার করেছি। আরও কারা জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এই ঘটনায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। পুলিশ সতর্ক করে বলেছে—

  • অপরিচিত কারও হাতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, পাসওয়ার্ড বা ডেবিট কার্ড তুলে দেবেন না।
  • আর্থিক লেনদেনে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত থানায় খবর দিন।

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে সাইবার প্রতারণার জাল কতটা গভীরে ছড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *